জগন্নাথপুরে সাংবাদিকের জমি দখলের পাঁয়তারা
স্টাফ রিপোর্টার ::
জগন্নাথপুরে সাংবাদিকের জমি জবর দখলের পাঁয়তারা চলছে। অভিযোগ থেকে জানাগেছে, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হাবিবনগর ভাঙা নামক স্থানে সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া পরিবার ৪ শতক জমি দুই মালিকের কাছ থেকে খরিদ করেন। এ জমির পশ্চিম অংশের মালিক সৈয়দপুর সৈয়দীয়া আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ। জমি খরিদ করার পূর্বে বিষয়টি রেজওয়ান আহমদকে জানানো হলে তার কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়ে উল্টো তার জমি বিক্রি করতে চান বলে জানান। এ সময় সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া তার এতো জমি কেনার সামর্থ্য নেই বলে জানান। উক্ত জমি রেজিস্ট্রারের পূর্বে বিক্রেতা কলমদর আলী ও মো. জুয়েলসহ উভয় বিক্রেতা, সৈয়দ রেজওয়ান আহমদের প্রতিনিধি মইন উদ্দিনসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সার্ভেয়ার পরিমাপ করে সীমানা পিলার বসিয়ে সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়াকে তার ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। কথা হয় ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জমি রেজিস্ট্রি হবে। তবে জমি রেজিস্ট্রিকালে সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় পঞ্চায়েতের দোহাই দিয়ে সাইফুল নামের এক জমি ব্যবসায়ী মো. শাহাজাহান মিয়াকে জমি রেজিস্ট্রি না করতে অনুরোধ করে বলেন এখানে রেজওয়ান আহমদের ৩টি দলিল রয়েছে। পরে সে সৈয়দ রেজওয়ান আহমদের কোন দলিল নেই বলে জানিয়ে জমি কেনার প্রস্তাব দেন। এ সুযোগে দুই মালিকের মধ্যে এক মালিক জুয়েল ও তার মামা শ্বশুর এনামকে অতিরিক্ত টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দেড় শতক জমি কিনে নেন রেজওয়ান আহমদ। একই সঙ্গে কলমদর আলীর জমিও কিনতে নানা কৌশল করা হয়। অবশেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মো. শাহজাহান মিয়া নিরুপায় হয়ে শুধু কলমদর আলীর আড়াই শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন। এ জমি রেজিস্ট্রির পর মো. শাহজাহান মিয়ার জমি দখলে তৎপর হয়ে উঠেন সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে জমিতে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়। তাতে আপত্তি জানালে রেজওয়ান আহমদের প্রতিনিধি মইন উদ্দিন জানায়, বেড়া তুলে দিচ্ছি। তবে এখনো বেড়া তুলেনি। এর মধ্যে অবস্থা বেগতিক দেখে মো. শাহজাহান মিয়া গত ১০ অক্টোবর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বরাবরে সৈয়দ রেজওয়ান আহমদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের আলোকে ১৫ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষকে নিয়ে শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে নোটিস জারি করেন। নির্ধারিত তারিখে সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া পক্ষ উপস্থিত হলেও সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ অসুস্থতার দোহাই দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ৩ নভেম্বর আবারো শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে নোটিস প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এমতাবস্থায় ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়ার জমি জবর দখলে নিতে পাকা দেয়াল নির্মাণকাজ শুরু করেন সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ ও তার লোকজন। এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দিনকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জগন্নাথপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি নুর হোসেনকে মোবাইলফোনে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ আমার বৈধ খরিদা জমি জোরে দখল করতে চান। আমি আমার জমি রক্ষায় প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সৈয়দ রেজওয়ান আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
